মানব জাতি ও জ্বীন জাতি- এক অসাধারণ আলাপচারিতাঃ কুর’আনের কতিপয় আয়াত -আইনুল বারী
৫৭.মানব জাতি ও
জ্বীন জাতি- এক অসাধারণ
আলাপচারিতাঃ
কুর’আনের কতিপয় আয়াত
-আইনুল বারী
----- -- -- -- --- ---
'বলুন, আমার প্রতি প্রত্যাদেশ হয় যে এক দল জ্বিন কুর'আন শুনেছিলো;
তারপর তারা বলেছে, আমরা বিস্ময়কর কুর'আন শুনেছি!'
'এটি সৎপথ প্রদর্শন করে, তাই এতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করেছি,
আর আমরা কখনও আমাদের প্রতিপালকের সাথে কাউকে
অংশীদার (শরীক) করবো না।'
'এবং আরও বিশ্বাস করি যে আমাদের প্রতিপালকের মর্যাদা সবার উপরে-
তাঁর কোনো স্ত্রী বা সন্তান নেই।'
'আমাদের মধ্যে নির্বোধরা আল্লাহ সম্পর্কে নির্বিচারভাবে (মিথ্যা) কথাবার্তা
বলতো।'
'অথচ আমরা মনে করতাম মানুষ ও জ্বিন আল্লাহ সম্পর্কে মিথ্যা বলতে পারে না।'
'কিছু মানুষ জ্বিনের কাছে আশ্রয় খোঁজ করতো (সাহায্য গ্রহণ করতো),
ফলে তারা তাদের(জ্বিনদের) মধ্যে অপরাধ প্রবণতা
বাড়িয়ে দিলো।'
'আর বাস্তবিকই তারা মনে করতো, যেমন তোমরা (মানুষেরা) মনে করো, যে আল্লাহ কাউকে
মৃত্যুর পর পুনর্জীবিত করবেন না।'
'আমরা মহাকাশে অনুসন্ধান চালিয়েছিলাম, তবুও দেখেছি তা নিবিড় প্রহরী/প্রতিরক্ষা বেষ্টিত ও
জ্বলন্ত পিন্ড (আগুনের শিখা) দ্বারা পরিপূর্ণ।'
'আমরা শোনার জন্য মহাকাশের বিভিন্ন ঘাঁটিতে/স্টেশনে বসে থাকতাম;
কিন্তু কেউ কিছু যখন শুনতো, দেখতে পেতো ওঁৎ পেতে
থাকা কোনো জ্বলন্ত পিন্ড তাকে অনুসরণ করছে।'
'আর আমরা জানি না পৃথিবীবাসীদের জন্য অমঙ্গল অভিষ্ট হয়ে আছে না,
নাকি তাদের প্রতিপালক তাদের মঙ্গল ইচ্ছা করেন।'
'আমাদের মাঝে কেউ কেউ সৎ কর্মশীল আর কেউ কেউ এমন নয়। আমরা বিভিন্ন পথ/মতে
বিভক্ত।'
'আর আমরা জানি আমরা পৃথিবীতে আল্লাহকে ব্যর্থ করতে পারবো না,
না পারবো তাঁর থেকে পালিয়ে
যেতে।'
'আর যখন আমরা পথ-নির্দেশ শুনলাম, তাতে আমরা বিশ্বাস স্থাপন করলাম; সুতরাং যে তার
প্রতিপালকের প্রতি বিশ্বাস আনে, তার ক্ষতিগ্রস্ত ও অত্যাচারিত হওয়ার আশংকা নেই।'
'আমাদের মাঝে কিছু মুসলমান আছে , আর আছে কিছু অন্যায়কারী; কাজেই যারা মুসলমান
হয়েছে, তারা সঠিক পথ বেছে নিয়েছে।'
'আর যারা অন্যায়কারী তারা তো জাহান্নামের ইন্ধন।'
-সূরাহ জ্বিন(অধ্যায়-৭২), আয়াত ১ থেকে ১৫
মন্তব্যঃ-
১। পবিত্র কুর'আনের শিক্ষা থেকে আমার বোধে এটুকু
প্রতীয়মান হয় যে মানব জাতির মতো বিভিন্ন এলিয়েন জাতি মহাজগতে দীর্ঘ সময়ব্যাপী
বিচরণশীল; আর এই
'জ্বিন' জাতি গোষ্ঠী বুদ্ধিমান সত্তাধারী এলিয়েন অন্তর্ভুক্ত। তারাও মহাজগত নিয়ে, সৃষ্টি রহস্য নিয়ে, মহা-বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে বিভিন্ন
কর্মকান্ডে লিপ্ত রয়েছে। শয়তান এমনই কোনো জ্বিন প্রজাতির সদস্য ছিলো। জ্বিন জাতিকে
আমরা দেখতে পাইনা কিন্তু তারা হয়তো আমাদের দেখতে বা জানতে-বুঝতে পারে। জ্বিনদের মধ্যেও
ভালো/মন্দ, বিশ্বাসী(মুসলমান)/অবিশ্বাসী(কাফের)আছে।
২। 'জ্বলন্ত অগ্নি শিখা' বলতে কী বোঝানো হয়েছে সঠিকভাবে তা নিরূপণ করা কঠিন। তবে অন্ধকার আকাশে কোনো
আলোকময় বস্তু যথা বিমান, রকেট,
মহাকাশ যান, নক্ষত্র রাজি, বা ধাবমান উল্কা পিন্ডকে আগুনের শিখার
মতোই মনে হয়। নিজে অনুবাদ করে পড়তে গিয়ে সূরাটির অর্থ অন্য রকম লাগলো, কেমন জানি একটা শিহরণ যা আগে কখনও হয়নি। 'ওঁৎ পেতে
থাকা জ্বলন্ত পিন্ড বা অগ্নি শিখা অনুসরণ করছে'
বলতে কোনো
গোয়েন্দা মহাকাশ যানের অনুসরণকে বোঝানো হয়েছে কি?
ভেবে দেখার
বিষয় । অনুবাদের ক্ষেত্রে পরম ক্ষমাশীল দয়ালু আল্লাহ আমার অনিচ্ছাকৃত ও অজ্ঞতা
প্রসূত ভুল-ত্রূটি ক্ষমা করুন। তিনিই সর্বজ্ঞ।
Comments
Post a Comment