আমরা প্রকাশ্যে কতোটা সৎ? গোপনে কতোটা আত্ম-প্রবঞ্চক? -আইনুল
৬.আমরা
প্রকাশ্যে কতোটা সৎ? গোপনে কতোটা আত্ম-প্রবঞ্চক?
-আইনুল বারী
-- --- -----
-আইনুল বারী
-- --- -----
আমাদের
মাঝে অনেকেই আছেন যারা অনেক সৎ। কিন্তু তবুও গোপন এমন অনেক আত্ম-প্রবঞ্চনা থাকে যা
বাইরের পৃথিবীর কেউ জানেন না।এমন আত্ম-প্রবঞ্চনাকারী মানুষ ভাবে, আহ! নিজের মধ্যে এই গোপন অপরাধগুলিতো কেউ জানলো না। যা আমি চিন্তা করছি, যতো মন্দই হোক কিন্তু কর্মে প্রতিফলিত হচ্ছে না। এমনকি কথাতেও প্রকাশ
পাচ্ছে না! ঈর্ষার লুকানো হিশহিশ, কামনার
গোপন কটাক্ষ, মিথ্যার জটবাঁধা সুতোর কুন্ডলী চিরদিন
অপ্রকাশিত থাকবে। মানুষ শুধু জানবে যেটুকু বলা হয়েছে, ও সহজে ধরা যায় এমন কাজে। যখন মানুষ মনে করে তাকে কেউ দেখছে না, জানছে না, যখন সে একান্তে নিজের ভেতরে থাকে, যাই করুক সে কেবল নিজেই নিজের স্বাক্ষী।তখন আত্ম-প্রবঞ্চনার বিরাট সুযোগ
তৈরি হয়।তার সততার মুখোশ প্রকাশিত থাকে,
অপরাধ গোপন
থাকে। হয়তো আমার সাথে অনেকে একমত নাও হতে পারেন,
তবুও আমি
বলবো,নাস্তিক্যবাদী নৈতিকতার জন্য এটি একটা
গুরুতর সমস্য।
বিশ্বাসী
মানুষ সবসময় ভাবে তার গোপন বলে কিছু নেই। যা সে করে,
বলে, চিন্তা করে, যতো সূক্ষ্ম হোক তা, মহান প্রতিপালকের কাছে প্রকাশিত,
তিনি সব
কছুই জ্ঞাত, সব কিছুর স্বাক্ষী। এবং কোনো কিছুর জন্য
জবাবদিহিতা এড়িয়ে যাওয়ার কোনো উপায় নেই। এই সচেতনতা তাকে প্রতিটি কর্মে, কথায়, এমনকি চিন্তায় তাকে সতর্ক করে তোলে।সততা
তার জীবন যাপনের অনুশীলনে পর্যবসিত হয়;
যা তাকে
নৈতিকতার দিক দিয়ে খুব দ্রুত উচ্চমানে উন্নীত করতে পারে। আত্ম-প্রবঞ্চনা করা
ক্রমেই দুঃসাধ্য হয়ে ওঠে।যে নিজের সাথে সার্বক্ষণিক সৎ থাকতে চেষ্টা করে তার পক্ষে
অন্যের সাথে প্রতারণা করা কতোটা সম্ভব?
ব্যর্থতায়
অনুশোচনা তীব্র হয়। অনুপ্রেরণা ও স্রষ্টার সমীপে ব্যর্থ হবার আশংকা ও লজ্জা তাকে
আত্ম-শুদ্ধ করে। সে যদি সত্যিকার অর্থে বিশ্বাসী হয়।
শুধু
দৃষ্টিভংগীর পরিবর্তন শেষ কথা নয়, বড় কিছুর
জন্য বিশ্বাসে্রও পরিবর্তন গুরুত্বপূর্ণ।
Comments
Post a Comment