ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদন্ড? না, এটি ভুল কথা। -আইনুল
৫.ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদন্ড? না, এটি ভুল কথা।
-আইনুল বারী
-- --- --
ধর্মত্যাগের শাস্তি মৃত্যুদন্ড, এর সপক্ষে কুর'আনে কোনো আয়াত নেই। এটি আল্লাহর নির্দেশও নয়। এটি কুর'আন বিরোধী একটি ভয়ংকর ভুল শিক্ষা! কুর'আনের উপর হাদিসের শাসন চলছে বলে আজ ইসলামের মহান শিক্ষা থেকে অনেক দূরে সরে গেছি আমরা। বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে আমি শুধু কুর'আনের আয়াত দিয়ে বিষয়টি পরিষ্কার করতে চেষ্টা করবো ।
‘এটি এজন্যে যে
তারা বিশ্বাস এনেছিলো, তারপর অস্বীকার করেছে; ফলে তাদের অন্তরসমূহ বন্ধ হয়ে গেছে;
অতএব তারা বোঝে না।’ -সূরাহ
মুনাফিকুন(অধ্যায়-৬৩),আয়াত-৩
‘আর
যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা এসো, আল্লাহর রসূল তোমাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন! তখন তারা মুখ ঘুরিয়ে নেয়, আর আপনি তাদেরকে দেখেন, তারা অহংকারে মুখ ফিরিয়ে নেয়।’ -সূরাহ মুনাফিকুন(অধ্যায়-৬৩),আয়াত-৫
‘যারা বিশ্বাস এনেছে (মুসলমান হয়েছে), তারপর সত্য অস্বীকার করেছে (কাফের হয়েছে), আবার বিশ্বাসী (মুসলমান) হয়েছে, এবং আবার অবিশ্বাসী(কাফের) হয়েছে, আর অবিশ্বাসেই(কুফরীতেই) ক্রমে তলিয়ে গেছে, আল্লাহ তাদেরকে কখনো ক্ষমা করবেন না, পথ দেখাবেন না।' সূরাহ নিসা(অধ্যায়-৪),আয়াত-১৩৭
এই আয়াতগুলিতে প্রমাণ রয়েছে, বিশ্বাসীদের
কেউ কেউ কাফের হয়েছে, তবু আল্লাহ বিধি দেন নি তাদের কাউকে হত্যা করার জন্য। বরং বিশ্বাসত্যাগী সুযোগ পেয়েছে কাফের অবস্থা
থেকে প্রত্যাবর্তনের,
আবারও বিশ্বাসী হওয়ার।
আল্লাহ বলেছেন, ‘আর
যখন তাদেরকে বলা হয়ঃ তোমরা এসো, আল্লাহর রসূল তোমাদের জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা করবেন!..।’ তাদের কেউ কেউ পুনরায় বিশ্বাসী হয়েছে। কিন্তু দ্বিতীয়বার বিশ্বাসী হয়ে আবারও কাফের হয়েছে, তখনো আল্লাহ বিধি
দেননি কাফের হওয়ার অপরাধে তাকে হত্যা করতে হবে। দ্বিতীয়বার কাফের হয়েও তার
ধর্মে ফিরে আসার সুযোগ আল্লাহ রেখেছেন। কিন্তু সে
তখন কুফরীতেই লিপ্ত থাকলো আর কুফরীর পরিমাণ বাড়িয়েই চললো। তবু আল্লাহ এর জন্য মৃত্যদন্ড শাস্তির বিধান রাখেন নি। কেননা, জোর করে বিশ্বাস আনানো যায় না। জোর করলে বড় জোর মুনাফেকের সংখ্যা বাড়ানো যাবে। আল্লাহ তাই জানিয়ে দিয়েছেন তাদেরকে আল্লাহ ক্ষমা করবেন না, সোজা পথ তাদের জন্যে নয়। তাদের পরকালের শাস্তি অনেক কঠিন। যদি ধর্মত্যগের শাস্তি মৃত্যু হয়, তবে আল্লাহর কথা কি মিথ্যা হবে? নিশ্চয় নয়।
Comments
Post a Comment