আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর প্রতি আল্লাহর অভিশাপ -আইনুল
৩৭.আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর প্রতি
আল্লাহর অভিশাপ
-আইনুল বারী
-- --- ---
যদি আবু লাহাব ও তার স্ত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করতেন, তবে নবী কীভাবে
ব্যাখ্যা করতেন নিচের এই আয়াতগুলি? ...
'আবু লাহাবের দুই হাত ধ্বংস হোক, এবং সে
নিজে!
তার সম্পদ ও উপার্জন কোনো কাজে আসবে না,
লেলিহান আগুনে সে প্রবেশ করবে,
এবং তার স্ত্রী, জ্বালানী কাঠ কুড়োনী,
তার গলায় থাকবে পাকানো রশি।' -সূরাহ আল
মাসাদ(অধ্যায়-১১১)
আমরা কুর'আনের আয়াতের শব্দগত অর্থ খুঁজতে থাকি, কিন্তু তার
অন্তর্নিহিত প্রজ্ঞাকে বুঝতে চেষ্টা করি না। অবিশ্বাসীরা মনে করেন, এই সূরাহ
তাৎপর্যহীন, আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর উপর আল্লাহর
অভিশাপ ছাড়া কিছু না।
সুরাহটি আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর প্রতি আল্লাহর কেবল অভিশাপ নয়, বরং মনে হয়েছে তা অবতীর্ণ হয়েছিলো ইসলামের পথে বাধাদানকারী, অবিশ্বাসীদের
প্রতি শিক্ষণীয় চ্যালেঞ্জ হয়ে।
আল্লাহ যাকে অভিশাপ দিয়েছেন তার পক্ষে বিশ্বাসী হওয়া কীভাবে সম্ভব? না, তাদের পক্ষে তাদের
জীবদ্দশায় তথা সমাজের স্বাক্ষীতে ইসলাম গ্রহণ করা সম্ভব হয়ন। আর আদৌ কি সম্ভব ছিলো? যখন আল্লাহ
তাদের অভিশাপ দিলেন অর্থাৎ হেদায়েতের পথ রুদ্ধ করলেন? একটু
বিশ্লেষণ করা যাক,
এক. যদি আবু লাহাব ও তার স্ত্রী কুর'আনের কথাকে
মিথ্যা প্রমাণ করতে ও নবীকে ভুল প্রমাণ করার উদ্দেশ্যে ইসলাম
গ্রহণ করতেন তাহলে তারা জানতেন যে তারা আসলে ইসলাম গ্রহণ করেন নি, বরং
ইসলামকে মিথ্যা প্রমাণের জন্য প্রতারণামূলক ইসলাম গ্রহণ করেছেন, এবং আল্লাহ
তাদের অন্তরের কথা জানতেন। কাজেই তারা বাস্তবিকই মুসলমান হতে পারতেন না।
দুই. যদি আবু লাহাব ও তার স্ত্রী তাদের জীবদ্দশায় ইসলাম গ্রহণ করতেন, তাহলে কী হতো?
মক্কাবাসীর কাছে আল্লাহর বাণী ভুল প্রমাণিত হতো, নবুয়তের দাবীই মিথ্যা হয়ে যেতো, আর ইসলামের বিকাশ অংকুরেই বিনষ্ট হতো। নয়তো বিশ্বাসী হলেও সে ক্ষমা পেতো না, যেহেতু শাস্তি নির্ধারিত। যে জীবদ্দশায় বিশ্বাস এনেছে, তার জন্যে ক্ষমার দরোজা বন্ধ থাকবে? তার পক্ষে কি সম্ভব যিনি অপার ক্ষমাশীল ও ন্যায়বিচারক? আল্লাহ জানতেন, আবু লাহাব ও তার স্ত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে না, সে পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
অতএব, আবু লাহব ও তার স্ত্রীর পক্ষে তাদের জীবদ্দশায় প্রকৃত অর্থে মুসলামান হওয়ার কোনো সুযোগ ছিলো না।
মক্কাবাসীর কাছে আল্লাহর বাণী ভুল প্রমাণিত হতো, নবুয়তের দাবীই মিথ্যা হয়ে যেতো, আর ইসলামের বিকাশ অংকুরেই বিনষ্ট হতো। নয়তো বিশ্বাসী হলেও সে ক্ষমা পেতো না, যেহেতু শাস্তি নির্ধারিত। যে জীবদ্দশায় বিশ্বাস এনেছে, তার জন্যে ক্ষমার দরোজা বন্ধ থাকবে? তার পক্ষে কি সম্ভব যিনি অপার ক্ষমাশীল ও ন্যায়বিচারক? আল্লাহ জানতেন, আবু লাহাব ও তার স্ত্রী ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করবে না, সে পথ বন্ধ হয়ে গেছে।
অতএব, আবু লাহব ও তার স্ত্রীর পক্ষে তাদের জীবদ্দশায় প্রকৃত অর্থে মুসলামান হওয়ার কোনো সুযোগ ছিলো না।
ইসলাম প্রচারে বাধা দানকারী মক্কার মুশরিকদের মধ্যে অনেকেই পরবর্তীতে
মুসলামান হয়েছিলেন।তাদের ক্ষেত্রে আবু লাহাব ও তার স্ত্রীর মতো এ্মন আশ্চর্য উভয়
সংকট বিদ্যমান ছিলো ন। কেননা অন্যদের ক্ষেত্রে
ব্যক্তিগতভাবে, নাম উল্লেখ করে আল্লাহর অভিশাপ নেমে
আসেনি। ইসলামের শত্রুদের প্রতি আল্লাহর অভিশাপের এমনই পরিনাম!
এজন্যই সুরাটিকে মিরাকেল মনে হয়, আল্লাহর
এমন এক নিদর্শন, যা থেকে সত্যকে অনুধাবনে প্রজ্ঞা লাভের সুযোগ রয়েছে।
Comments
Post a Comment