আমরা মারা গেলে কোথায় যাবো? ঃ জীবন ও মৃত্যুর জ্ঞানতাত্ত্বিক সংশয় -আইনুল বারী
আমরা মারা গেলে কোথায় যাবো?
মৃত্যুর জ্ঞানতাত্ত্বিক সংশয় ও ধর্মের কথা
-আইনুল বারী
--- --
আমরা মারা গেলে কোথায় যাবো?...ধর্ম বিশ্বাসীরা সহজভাবে এক কথায় বলবেন, পরকালই হবে শেষ ঠিকানা। জড়বাদীরা সেদিকে না গিয়ে বলেন, দেহ প্রকৃতির সাথে মিশে যাবে, ব্যাস। কিন্তু চেতনা? মৃত্যু যদি 'না-চেতনা' হয় তবে তাতো 'চেতনায়' কখনো অনুভূত হবে না!! আর চেতনা ক্রম- সঞ্চালমান। এটা 'না-চেতনা'য় বিলীন হয় না। আমরা নিজেদের মৃত্যু দেখতে পাই না, অন্যের মৃত্যু দেখি। অন্যের মৃত্যু দেখে নিজেদের মৃত্যুকে কল্পনা করি। যতোক্ষণ সত্তা চেতন-সত্তা ততোক্ষণ সে নিজের মৃত্যুকে জানবে না, যেভাবে তার মৃত্যুকে অন্যেরা জানবে বা প্রত্যক্ষ করবে । মৃত্যু এক রহস্যময় এক গভীর ঘুমের মতো, যা এ পৃথিবীতে কখনো ভাঙবে না। অথবা আরও আত্ম-সচেতন হয়ে জেগে ওঠা । মানুষের ব্যক্তিগত মৃত্যু শুধু তার নিজের একান্ত অভিজ্ঞতা, যেখানে সে যখন নিজের কাছে বেঁচে থাকে তখন অন্যেরা তাকে মৃত দেখে। মৃত্যু মানে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নয়। আমাদের প্রত্যক্ষণ নির্ভর সামাজিক অভিজ্ঞতা বলে, মানুষের মৃত্যু হয়, তখন সে ইহলোক থেকে চিরতরে হারিয়ে যায়, এ অনিস্বীকার্য, সত্য!আমরা অন্য্যের মৃত্যুর অভিজ্ঞতা ও আত্ম- জ্ঞানকে জানি না, কেবল তাকে আমাদের চোখে নিষ্প্রাণ হতে দেখি, কিন্তু যে মৃত্যু বরণ করছে সে কীভাবে নিজেকে নিজের কাছে জীবন্ত/সচেতন দেখে? অথবা কীভাবে মৃত্যু মানে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নয়? এটা বোধ করি মহাবিশ্বের চেতনা সম্পর্কিত সব চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বা জটিল প্যারাডক্স যা আজো বিজ্ঞানীরা ব্যখ্যা করতে পারে নি। তবে ধর্ম এর সহজ অলৌকিক উত্তর দিয়েছে। ধর্ম ব্যাখ্যা করেছে মৃত্যু মানে নিঃশেষ হয়ে যাওয়া নয়, মৃত্যু অস্তিত্বের স্থানান্তরিত হওয়া। মৃত্যু-ঘুম ভাঙ্গবে অন্য জগতে, যার নাম পরলৌকিক জগত, যেখানে জ্ঞান জগতের উচ্চতর দিগন্ত খুলে যাবে, মানুষের জীবনের সত্য-মিথ্যার সংশয় কেটে যাবে, মানুষ দ্বিধাহীনভাবে জানবে কেনো সে সৃষ্টি হয়েছিলো, কী সে করে এসেছে। সে নিজের মৃত্যুকে, পরলৌকিক জগতকে প্রত্যক্ষ করবে অনন্য উপায়ে, দেখবে সে পার্থিব জীবন থেকে আত্ম-অতিক্রম করে অন্য জগতে অনুপ্রবেশ করছে। দেখবে সে জগত অনেক বেশি বাস্তব, অর্থপূর্ণ ও স্থায়ী। পরলৌকিক জগতের প্রকৃত রূপ আমরা জানি না, আমরা কেবল আমাদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে সে সম্পর্কে রূপকল্প তৈরী করতে পারি ।
(পুরোনো লেখা।)
Comments
Post a Comment